রুটিন

সহজ স্কিনকেয়ার রুটিন শুরু করবেন যেভাবে

অনেক পণ্যের ভিড়ে কোথা থেকে শুরু করবেন? সকাল ও রাতের জন্য সহজ, টেকসই একটি রুটিন সাজানোর গল্প।

By Derma Ghor
স্কিনকেয়ার রুটিনের জন্য বিভিন্ন পণ্য

আলমারিতে সারি দিয়ে রাখা বোতল দেখে স্কিনকেয়ার শুরু করা কঠিন মনে হতে পারে। অথচ ভালো রুটিনের প্রথম শর্ত অনেক ধাপ নয়; প্রতিদিনের জীবনে সেটি ধরে রাখতে পারা। সকালে তাড়াহুড়ো, রাতে ক্লান্তি। এই দুই সময়ের মধ্যেই যে যত্নটুকু স্বাভাবিকভাবে জায়গা পায়, সেটিই আপনার শুরু হতে পারে।

প্রথমে ভিত্তিটুকু গড়ে নিন

একটি কোমল ক্লেনজার, ত্বকে মানানসই ময়েশ্চারাইজার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন। এই তিনটি পণ্য দিয়েই বেশির ভাগ সাধারণ রুটিনের কাঠামো তৈরি হয়। ক্লেনজিংয়ের পর ত্বক শুকিয়ে নিন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের দেওয়া ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করুন, তারপর ময়েশ্চারাইজার ও দিনের সানস্ক্রিনের ধাপ রাখুন। পণ্য ব্যবহারের ক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে লেবেলের নির্দেশনাও দেখুন।

শুরুর দিনেই একসঙ্গে পাঁচটি নতুন পণ্য কিনতে হবে, এমন নয়। ত্বক কোনো পণ্যে অস্বস্তি অনুভব করছে কি না বোঝার জন্য রুটিনটি সহজ রাখাই সুবিধাজনক। একটি পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কিছু নেওয়া যাবে না, এমন কঠোর নিয়মও নেই; লক্ষ্য হলো কোনটি আপনার জন্য কাজ করছে, তা বুঝে এগোনো।

সকাল ও রাতের আলাদা ছন্দ

সকালের রুটিনে এমন কিছু রাখুন, যা বাইরে বেরোনোর প্রস্তুতির সঙ্গে মিশে যায়। মুখ ধোয়া, ময়েশ্চারাইজার এবং প্রয়োজনীয় সানস্ক্রিনের জন্য কয়েক মিনিট আলাদা করলেই শুরু করা যায়। সানস্ক্রিনকে শেষ মুহূর্তের ভুলে যাওয়া ধাপ না বানিয়ে দিনের প্রস্তুতির অংশ ভাবলে অভ্যাস গড়া সহজ হয়।

রাতে ঘুমের আগে মুখের ময়লা ও দিনের জমে থাকা পণ্য ধুয়ে নেওয়া একটি সহজ সংকেত: দিনের কাজ শেষ, এবার নিজের যত্ন। এরপর ত্বক শুষ্ক লাগলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সকাল আর রাতের রুটিন হুবহু এক হওয়া জরুরি নয়; ব্যবহারবিধি ও আপনার ত্বকের অনুভূতি অনুযায়ী তা সাজান।

নতুন পণ্য যোগ করার সময় থামুন, দেখুন

কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে ভাবলে একটি লক্ষ্য বেছে নিন, যেমন শুষ্কতা বা ত্বক টানটান লাগা। তারপর সেই প্রয়োজনের পণ্যটি রুটিনে কোথায় বসবে, তা বুঝুন। একসঙ্গে কয়েকটি ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করলে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে, আবার কোন পণ্যটি তার কারণ তা বোঝাও কঠিন হয়।

নতুন পণ্য পুরো মুখে ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে দেখা উপকারী। লালচে ভাব, চুলকানি বা ফোলাভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। অস্বস্তি তীব্র হলে, বারবার ফিরে এলে বা আপনার ত্বকের অবস্থা নিয়ে সন্দেহ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

যে রুটিন আপনার জীবনে টিকে থাকে

একদিন বাদ পড়ে গেলে আবার পরের দিন শুরু করুন। রুটিনকে নিখুঁত রাখার চাপ অনেক সময় সেটি ছেড়ে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বরং বাথরুমের তাক বা ব্যাগে পণ্যগুলো এমনভাবে রাখুন, যাতে প্রয়োজনের সময়ে সহজে হাতের কাছে পান।

আবহাওয়া, বাইরে কাটানো সময় কিংবা ত্বকের অনুভূতি বদলাতে পারে। সে সঙ্গে পণ্যের টেক্সচার বা ব্যবহারের ধরনও বদলাতে পারেন। রুটিন তখনই আপনার, যখন সেটি বাজারের তালিকার চেয়ে আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

নিজের রুটিন তৈরি করুন

তথ্যসূত্র

পণ্য ব্যবহারের ক্রম

নতুন পণ্য পরীক্ষা